বাংলাদেশের প্রায় ১৫০টি তৈরি পোশাক (আরএমজি) কারখানায় আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬ উপলক্ষে র্যালি, সেমিনার ও কর্মস্থলে সচেতনতামূলক নানা কার্যক্রম আয়োজন করা হয়। এসব কার্যক্রমে প্রায় দুই লাখ শ্রমিক অংশ নেন। কর্মক্ষেত্রে সমতা, হয়রানি সম্পর্কে অভিযোগ জানানো এবং শ্রমিকদের অংশগ্রহণের বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোই ছিল এসব আয়োজনের লক্ষ্য।
৮ মার্চ দিনটি উপলক্ষে এ আয়োজনগুলো করা হয়। অংশগ্রহণকারী কারখানাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে এ কার্যক্রম পরিচালনা করে এথিক্যাল ট্রেডিং ইনিশিয়েটিভ (ই টি আই) বাংলাদেশ। কর্মক্ষেত্রে সমতা, বৈষম্য ও সহিংসতার অভিযোগ জানানো এবং অভিযোগ নিষ্পত্তিতে কর্মস্থলের কমিটির ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে শ্রমিক ও ব্যবস্থাপনা প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
কারখানার ভেতরে ও বাইরে র্যালির আয়োজন করা হয়। শ্রমিকেরা কর্মক্ষেত্রে সমতা ও পারস্পরিক সম্মানের বার্তা লেখা ব্যানার, ফেস্টুন, টি-শার্ট ও ক্যাপ বহন করেন। কয়েকটি কারখানায় বার্তা বোর্ড স্থাপন করা হয়, যেখানে শ্রমিকেরা কর্মক্ষেত্রে হয়রানি ও বৈষম্য কমানোর বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন।
সেমিনার ও আলোচনা সভায় শ্রমিক ও ব্যবস্থাপনা প্রতিনিধিরা একত্র হন। এসব আলোচনায় কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য ও সহিংসতা প্রতিরোধে করণীয়, শ্রমিক ও ব্যবস্থাপনার মধ্যে যোগাযোগ জোরদার করা এবং বৈষম্য, সহিংসতা ও হয়রানি অভিযোগ নিষ্পত্তি কমিটির কাজ নিয়ে আলোচনা হয়।
দিবসটি পালনে সহায়তার জন্য অংশগ্রহণকারী কারখানাগুলোকে সচেতনতামূলক বিভিন্ন উপকরণ দেয় এথিক্যাল ট্রেডিং ইনিশিয়েটিভ বাংলাদেশ। এর মধ্যে ছিল ব্যানার ও একটি মূল বক্তব্যপত্র, যেখানে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের ইতিহাস এবং পোশাক খাতের শ্রমিকদের জন্য এর গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। এ ছাড়া নারী-পুরুষ সমতা ও জেন্ডার-সংবেদনশীল কর্মস্থল বিষয়ে গান ও স্বল্পদৈর্ঘ্য ভিডিওসহ কিছু অডিও-ভিজ্যুয়াল উপকরণও শেয়ার করা হয়।
কিছু কারখানায় শ্রমিকদের উপস্থিতি, উৎপাদন ও আচরণের ভিত্তিতে পুরস্কার দেওয়া হয়। কয়েকটি ক্ষেত্রে দক্ষ অপারেটরদের সুপারভাইজারি পদে উন্নীত করা হয়, যাতে কারখানার নেতৃত্বে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ে। কিছু কারখানায় ব্যবস্থাপনা দল নারী শ্রমিকদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানায়।
এই কার্যক্রমগুলোর মাধ্যমে তৈরি পোশাক খাতে কর্মক্ষেত্রে সমতা, মর্যাদা এবং অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা সম্পর্কে শ্রমিকদের সচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে।












